(১) শুক্রবার, জুমার পর, মসজিদ থেকে কার্য পরিচালিত হবে:-
ঋণ বিতরণের মাশোয়ারা বা পরামর্শ, ঋণ বিতরণ এবং কিস্তি আদায়সহ সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদ থেকে। মসজিদের বাইরে থেকে বা শুক্রবার ব্যতীত অন্য কোন দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
জরুরী কোন প্রয়োজন দেখা দিলে ম্যানেজমেন্ট টিম - সপ্তাহে যে কোনদিন যে কোনো ওয়াক্তে মসজিদে বসে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ঋণ বিতরণ করতে পারবেন।
২। ঋণ রেজুলেশন
কাউকে ঋণ বিতরণের আগে নির্ধারিত ফরমে রেজুলেশন পাশ করতে হয়।
রেজুলেশন স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে কোনভাবেই কাউকে ঋণ প্রদান করবেন না।
রেজুলেশন পাশ হতে কমপক্ষে ৬ জনের স্বাক্ষর আবশ্যক।।
৩। তহবিল সংরক্ষণ
পদাধিকারবলে ক্যাশ বা নগদ টাকা সংরক্ষিত থাকবে ক্যাশিয়ার এর নিকট।
টিম লিডার বা অন্য কোন মেম্বার ক্যাশ সংরক্ষন করবেন না।
ব্যাংক যদি ব্রাঞ্চের খুব কাছে হয় তাহলে টাকা রাখতে হবে ব্যাংকে।
ঋণ প্রদান করতে হবে চেকের মাধ্যম। ঋন গ্রহীতা ব্যাংক থেকে চেক ভাঙাবে। আর শুক্রবারে কিস্তি আদায়ের পর কোষাধ্যক্ষ রোববারে ব্যাংকে জমা দেবেন।
আর যদি ব্যাংক দূরে হয় তাহলে যতটুকু পরিমাণ তহবিল নিয়মিত আসা-যাওয়া করে তা ক্যাশিয়ারের কাছে থাকবে। অতিরিক্ত তহবিল, অলস তহবিল ব্যাংকে জমা থাকবে।
৪। সফটওয়্যারে পোস্টিং :-
ব্রাঞ্চ ম্যানেজমেন্টকে সফটওয়্যারে যে সব এন্ট্রি করতে হয়:-
১। ব্যাংক থেকে টাকা উঠানো
২। ব্যাংকে টাকা জমা রাখা
৩। ঋণ বিতরণ করা
৪। কিস্তি আদায় করা।
৫। ব্যাংক চার্জ
৬। লোকাল ডোনেশান
যে কোন লেনদেন সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে সফটওয়্যারে এন্ট্রি করতে হবে। এন্ট্রি করার সময় সঠিক তারিখ সিলেক্ট করতে হবে।
৫। ফেসবুকে প্রচার
ঋণ বিতরণের ছবি অথবা ভিডিওধারণ করে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করতে হবে । পাশাপাশি ব্রাঞ্চ সংশ্লিষ্ট সবার ব্যক্তিগত টাইমলাইনে এবং অন্যান্য সোশাল মিডিয়াতে পোস্ট করা হলে তা মসজিদ ডট লাইফ এবং ব্রাঞ্চের জন্য অনেক সুফল বয়ে আনবে, ইনশাআল্লাহ।
পোস্টে উল্লেখ করতে হবে: কাকে ঋণ দিচ্ছেন, কত টাকা দিচ্ছেন, কী জন্য দিচ্ছেন, ব্রাঞ্চ কোড, ব্রাঞ্চের ঠিকানা, টিম লিডারের নাম ও ফোন নাম্বার, মসজিদ ডট লাইফ ও ব্রাঞ্চের ওয়েব লিংক।
৬। টিম মেম্বারদের ঋণ গ্রহণ
নতুন শাখার ঋণ বিতরণ শুরু হওয়ার তারিখ থেকে প্রথম ৬ মাসের মধ্যে লোকাল ম্যানেজমেন্ট টিমের কোন মেম্বার ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন না। আর টিম লিডার ১ বছরের মধ্যে কোন ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন না। অন্যথায় ব্রাঞ্চ ম্যানেজমেন্ট এর উপর এলাকাবাসীর আস্থা থাকে না।
৭। ঋণের ডকুমেন্টস আপলোড
ঋণ বিতরনের পর সর্বোচ্চ দ্রুত সময়ের মধ্যে ঋণ বিতরণের রেজুলেশন ও আবেদন ফরমের পিছনের পিঠের ছবি ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে।
৮। ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব
ক্যাশিয়ারকে হতে হবে সর্বোচ্চ আমানতদার ও গাইড লাইনের প্রতি অত্যন্ত কঠোর। তার কাছে রক্ষিত তহবিল তিনি কোন অবস্থায়ই নিজে খরচ করতে পারবেন না, নিজের ইচ্ছে মতো কাউকে দিতে পারবেন না, কারোর সুপারিশেও কাউকে দিতে পারবেন না, এমনকি মসজিদের সভাপতি বা ম্যানেজমেন্ট টিমের লিডার আদেশ করলেও তিনি এ টাকা কাউকে দিতে পারবেন না।
ঋণ বিতরণের রেজুলেশন স্বাক্ষরিত হওয়ার পরই শুধুমাত্র তিনি - টাকা হস্তান্তর করবেন; তার আগে কোনভাবেই নয়।
৯। ঋণ ও কিস্তির পরিমাণ
প্রাথমিক অবস্থায় সফটওয়্যারে ঋণের লিমিট থাকবে ৫ হাজার। ফান্ড বৃদ্ধির সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে ব্রাঞ্চের লিমিট বাড়তে থাকবে।
প্রাথমিক অবস্থায় ছোট ঋণ দিয়ে শুরু করা হলে ঋণ গ্রহীতারা ভবিষ্যতে আরও বড় অংকের ঋন পাওয়ার প্রত্যাশায় কিস্তি পরিশোধে অনিয়ম করেন না। অন্যদিকে বেশি সংখ্যক লোককে সেবা প্রদান করা যায়।
কিস্তি নির্ধারণের সময় ঋন গ্রহীতার সাথে পরামর্শ করে নির্ধারণ করবেন, যাতে তার উপর চাপ সৃষ্টি না হয়।
১০। হোয়াট্সএ্যাপ ও ফেসবুক গ্রুপ
দুটা হোয়াট্সএ্যাপ গ্রুপ আছে। ম্যানেজমেন্ট টিমের যতজন হোয়াট্সএ্যাপ ব্যবহার করেন তারা সকলেই এ দুই গ্রুপে যুক্ত থাকবেন। এছাড়া এলাকার লোক জনকেও সংযুক্ত করা যাবে।
১। Group 1: Notice
( মসজিদ ডট লাইফ কর্তৃপক্ষ থেকে জরুরি নির্দেশনা, পরামর্শ ইত্যাদি থাকবে। এখানে রিপ্লাই করার কোন অপশন নাই)
২। Group 2: 𝐈𝐧𝐭𝐞𝐫𝐚𝐜𝐭𝐢𝐨𝐧_𝐓𝐞𝐚𝐦 𝐋𝐞𝐚𝐝𝐞𝐫𝐬 (MDL)
(এই গ্রুপে আপনারা আপনাদের ব্রাঞ্চের যে কোন সমস্যা লিখতে পারবেন। সহযোগিতা চাইতে পারবেন। তবে এখানে কোন প্রচারণামূলক কোন পোস্ট করবেন না। এটা শুধু পারষ্পরিক সহযোগিতার গ্রুপ। মসজিদ ডট লাইফের বাইরে কোন বিষয় নিয়ে কোন বার্তা দিবেন না।)
ব্রাঞ্চের নিজস্ব হোয়াটস্যাপ গ্রুপ:- ব্রাঞ্চ এর নাম্বার দিয়ে একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলবেন। এই গ্রুপে ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্য সহ এলাকার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে নেবেন। এর ফলে ব্রাঞ্চের কার্যক্রম পরিচালনায় স্বচ্ছতা থাকবে এবং ব্রাঞ্চ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।
আপনাদের সমাজের নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ, দেশে-প্রবাসে যারাই ফেসবুক চালায় তাদের সকলকে মসজিদ ডট লাইফের ফেসবুক গ্রুপে অবশ্যই যুক্ত করবেন।
১১। সফটওয়্যার ট্রেনিং:-
এলাকার প্রত্যেকটা মানুষ যেন সফটওয়্যার থেকে ব্রাঞ্চের সমস্ত তথ্য জানতে পারে - সেজন্যে ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করবেন।
১২। ঋণ গ্রহীতাদের থেকে কোন টাকা নেওয়া যাবে না
ঋণ গ্রহীতাদের থেকে খরচের নামে, জামানতের নামে, মসজিদে অনুদানের নামে, ব্রাঞ্চে ডোনেশন করার নামে এক কথায় কোন নামে কোন অজুহাতে একটা টাকাও চাওয়া যাবে না, দাবি করা যাবে না।
কাগজ ফটোকপি, ব্যাংকে যাতায়াত ইত্যাদি খরচ ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্যদের এক বা একাধিক জন বহন করবেন। ঋণ গ্রহীতারা নয়।
১৩। ওভারডিউ লোনলিস্ট ফোল্ডার নিয়মিতভাবে চেক করবেন:
কোন ব্যক্তি সময় মত কিস্তি পরিশোধ না করলে - এই ফোল্ডারে তার প্রোফাইল শো হবে। এলাকার সবাইকে এই ফোল্ডার চিনিয়ে দিবেন। তাতে মনিটরিং অনেক বাড়বে এবং লোকজন সহজে কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব করবে না।
১৪। সামাজিক বিশৃঙ্খলার বিষয়ের সতর্ক থাকবেন:
কারো নিকট হতে কিস্তি আদায় করে সফটওয়্যার পোস্টিং দেয়া না হলে - তার প্রোফাইল ওভারডিউ লোন লিস্ট ফোল্ডারে দেখা যাবে।
সেই ব্যক্তি টাকা পরিশোধ করেছে। অথচ সারা দুনিয়া দেখতে পাচ্ছে সে ডিফল্টার।
এমন অবস্থায় সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
উল্লেখিত কারণে কারো কাছ থেকে বাড়িতে ঘরে কিস্তি আদায় করবেন না। শুক্রবার মসজিদে বসে কিস্তি আদায় করবেন এবং সাথে সাথে সফটওয়্যারে পোস্টিং দিয়ে দেবেন।
১৫। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলে দ্বিগুণ এবং অনিয়ম করলে অর্ধেক :-
ঋণ বিতরণের প্রাক্কালে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাবে এই ঘোষণা দেবেন যে - কেউ কিস্তি পরিশোধে অনিয়ম করলে - ভবিষ্যতে তার লিমিট হয়ে যাবে অর্ধেক।
অন্যদিকে যারা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করবেন, ফান্ড থাকা সাপেক্ষে তারা দ্বিগুণ পরিমাণ ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন।
স্বচ্ছতার জন্য এবং অনিয়ম বা দুর্নীতির অপ-সম্ভাবনা রোধ করার জন্য - ঋন গ্রহীতার ছবি প্রকাশ বাধ্যতামূলকঃ-
♦ আমাদের কার্যক্রম মসজিদ ভিত্তিক। যখন কোন একটা মসজিদে একটা ব্রাঞ্চ চালু হয় তখন সেই এলাকার সকল মানুষ সে বিষয়ে অবগত থাকেন এবং ওপেন বুক সফটওয়্যার এর কারণে সকল তথ্য দেখতে পান।
ঋণগ্রহীতার ছবি এবং বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করার কারণে - কোন ভুয়া কিংবা অযোগ্য মানুষের নামে ঋণ ইস্যু করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ আসতে শুরু হয়।
♦ কেউ সময় মত কিস্তি পরিশোধ না করলে সেটাও সবাই দেখতে পান।
মোটকথা ব্রাঞ্চ ভিত্তিক ঋণ গ্রহিতার সমস্ত তথ্য প্রকাশিত থাকার কারণে এখানে জেনুইন লোকেরাই ঋণ পেয়ে থাকেন এবং কোন ধরনের অনিয়মের সম্ভাবনা থাকে না।।
বিনীত-
কামাল আহমেদ
Cary NC USA
ফাউন্ডার -
"মসজিদ ডট লাইফ"
www.masjid.life
(দেশের সকল ধর্মের প্রান্তিক দরিদ্র, সংকটে নিপতিত জনগোষ্ঠী এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য ১০০% সুদমুক্ত এবং মুনাফা, সার্ভিস চার্জ, আবেদন ফি, জরিমানা ও জামানত বিহীন - মসজিদ ভিত্তিক ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ কার্যক্রম সহ বহুবিধ সমাজসেবামূলক কার্যক্রম)
+19193608286 (WhatsApp)
masjid.life.kamal@gmail.com
ফেসবুক: kamal.ahmed.mdl
ইউটিউব: @mdl_kamal