আমাদের সম্পর্কে

ঋণ, ব্রাঞ্চ ও দান কীভাবে কাজ করে, তার সবকিছু এখানে।

মসজিদ ডট লাইফ সম্পর্কে

মসজিদ ডট লাইফ কী?

মসজিদ ডট লাইফ ফাউন্ডেশন একটি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান (সোসাইটি অ্যাক্ট ১৮৬০, সনদ নং S-14751/2026), যা বাংলাদেশের সকল ধর্মের প্রান্তিক দরিদ্র ও সংকটে নিপতিত মানুষদের সুদমুক্ত ঋণসহ বহুমুখী সেবা প্রদান করে। এটি মসজিদভিত্তিক ও শুক্রবারভিত্তিক কার্যক্রম, প্রতিটি ব্রাঞ্চ মসজিদে স্থাপিত ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল দ্বারা পরিচালিত।

মসজিদকেন্দ্রিক কেন?

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামে মসজিদ আছে, কোনো কোনো গ্রামে পাঁচ-ছয়টা পর্যন্ত। মসজিদভিত্তিক করার ফলে কার্যক্রম খুব ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ হয়ে যায়, যাতে ম্যানেজমেন্ট টিম ও ঋণগ্রহীতারা একে অপরকে ভালোভাবে চেনেন এবং তদারকি সহজ হয়। শুক্রবার এলাকার প্রায় সবাই নির্দিষ্ট সময়ে মসজিদে উপস্থিত থাকেন, তাই জুমার পর প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ করলে দুর্নীতির সুযোগ অনেক কমে যায়।

মসজিদ ডট লাইফ কি অমুসলিমদের জন্যও উন্মুক্ত?

হ্যাঁ। ধর্মের কারণে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না, এটি ঐচ্ছিক দান নয়, বরং মানবিক ও ইসলামিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত। অমুসলিম পরিবারদের ঋণের টাকা মসজিদে না ডেকে সরাসরি তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

মসজিদ ডট লাইফের প্রতিনিধি দাবি করা কাউকে কীভাবে যাচাই করব?

বিশ্বাস করার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তার নাম, ছবি ও পদবী মিলিয়ে দেখুন। প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বাড়ার সাথে সাথে পরিচয় জালিয়াতির ঝুঁকিও থাকে, তাই সবসময় স্বাধীনভাবে যাচাই করুন।

ঋণ যেভাবে কাজ করে

কর্জে হাসানা কী?

কুরআনের "উত্তম ঋণ", সুদমুক্ত এবং কোনো ধরনের ফি ছাড়া। ঋণগ্রহীতা যা নিয়েছেন ঠিক ততটুকুই ফেরত দেন, এক টাকাও বেশি নয়।

সত্যিই কোনো ফি নেই?

একদমই নেই। কোনো সুদ, প্রসেসিং ফি, সার্ভিস চার্জ, আবেদন ফি, এসএমএস চার্জ, জরিমানা, জামানত বা অগ্রিম কর্তন নেই। ঋণগ্রহীতা যা নিয়েছেন তা-ই ছোট ছোট কিস্তিতে ফেরত দেন।

একজন কত টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন?

সাধারণ ঋণের সর্বোচ্চ সীমা প্রায় ২০,০০০ টাকা। একটি নতুন ব্রাঞ্চে প্রতিটি ঋণগ্রহীতার জন্য প্রাথমিকভাবে সফটওয়্যারে সীমা থাকে ৫,০০০ টাকা, ব্রাঞ্চ নির্ভরযোগ্য প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথে তা ধাপে ধাপে বাড়ে। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধকারীরা পরবর্তীতে দ্বিগুণ ঋণ পাওয়ার যোগ্য হন (ফান্ড থাকা সাপেক্ষে), আর অনিয়ম করলে সীমা অর্ধেক হয়ে যায়।

এই ঋণ কী কী কাজে ব্যবহার করা যায়?

ছোট ব্যবসার চলতি পুঁজি, রিকশা-ভ্যান কেনা বা মেরামত, সেলাই মেশিন, কৃষি উপকরণ, ঘর মেরামত, সন্তানের লেখাপড়া বা চিকিৎসা, এমনকি মেয়ের বিয়ের খরচ পর্যন্ত। উৎপাদনশীল ও আয়বর্ধক কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ঋণের বাইরেও অন্যান্য সেবা

ঋণ ছাড়া মসজিদ ডট লাইফ আর কী কী সেবা দেয়?

মূল সুদমুক্ত ঋণ ছাড়াও আরও পাঁচটি সেবা আছে, প্রতিবন্ধীদের সহায়তা, সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষা, শিক্ষা ঋণ, গরু ঋণ ও চাপাকল স্থাপন, প্রতিটির গঠনপ্রণালী নিচে দেওয়া হলো।

"প্রতিবন্ধীদের সহায়তা" সেবাটি কীভাবে কাজ করে?

এটি কোনো ঋণ নয়, যারা প্রতিবন্ধিতার কারণে কাজ করতে অক্ষম এবং ভরণপোষণের কেউ নেই, তাদের একটি যাচাইকৃত প্রোফাইল প্রকাশ করা হয়। আগ্রহী দাতারা ব্রাঞ্চের মাধ্যমে সরাসরি তাদের আর্থিক সহায়তা দেন। এই সেবার জন্য মসজিদ ডট লাইফ নিজে কোনো ফান্ড সংগ্রহ করে না।

সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষা সেবা কী?

দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী যারা অর্থাভাবে পড়াশোনা চালাতে পারছে না, তাদের জন্য ব্রাঞ্চ একটি প্রোফাইল তৈরি করে, আর মসজিদ ডট লাইফ একজন স্পন্সর খুঁজে দিতে সহায়তা করে, প্রায়ই যাকাতের টাকায়।

শিক্ষা ঋণ কীভাবে আলাদা?

এটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য, পড়াকালীন ঋণ নেওয়া হয়, লেখাপড়া শেষে উপার্জন শুরু হলে পরিশোধ করা হয়। ঋণদাতা সরাসরি শিক্ষার্থীর হিসাবে টাকা পাঠান, সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় থাকে মসজিদ ডট লাইফ।

গরু ঋণ কীভাবে কাজ করে?

কোরবানি ঈদের পরপরই কৃষককে গরু কেনার টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তী কোরবানি ঈদের আগে গরুটি বিক্রি করা হয়, লাভ কৃষক রাখেন, আর মূল টাকা পরের চক্রের জন্য ফেরত দেওয়া হয়।

চাপাকল স্থাপন সেবা কী?

পানীয় জলের সংকটে থাকা পরিবারদের জন্য যাকাতের টাকায় চাপাকল স্থাপন। অনুমোদনের আগে প্রতিটি আবেদন ব্রাঞ্চ টিম, মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর যৌথ জুম মিটিংয়ে পর্যালোচনা করা হয়, যাতে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ না থাকে।

নির্দিষ্ট পেশার জন্য কি আলাদা ব্রাঞ্চ আছে?

হ্যাঁ, সাধারণ মসজিদভিত্তিক ব্রাঞ্চের পাশাপাশি, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের মতো স্বল্প বেতনের পেশাজীবীদের জন্য থানাভিত্তিক বিশেষ ব্রাঞ্চও আছে, যেখানে ঋণসীমা ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত। ফেনীতে ইতিমধ্যে একটি পাইলট ব্রাঞ্চ চালু আছে। শিক্ষক, ডাক্তারসহ যেকোনো নিবেদিতপ্রাণ পেশাজীবী দল এমন ব্রাঞ্চ শুরু করতে আবেদন করতে পারেন, তবে যাতায়াতসহ যাবতীয় খরচ স্বেচ্ছাসেবকদের নিজেদেরই বহন করতে হয়, কারণ এটি শূন্য-খরচের প্রতিষ্ঠান।

দাতাদের জন্য

আমার দান কীভাবে ব্যবহৃত হয়?

১০০% টাকা সুদমুক্ত ঋণ বিতরণের জন্য ব্রাঞ্চগুলোতে যায়। বেতন, অফিস বা পরিচালন খরচে কিছুই ব্যয় হয় না, কারণ সেই ধরনের খরচ এখানে নেই।

আমার দান রেকর্ড হয়েছে কিনা কীভাবে নিশ্চিত হবো?

দান করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওয়েবসাইটের দাতা ও ঋণদাতা তালিকা দেখুন। আপনার নাম না থাকলে, তা এখনো প্রক্রিয়া হয়নি অথবা মসজিদ ডট লাইফে পৌঁছায়নি।

আমি কি আমার টাকা কোথায় গেল তা ট্র্যাক করতে পারব?

হ্যাঁ। মসজিদ ডট লাইফ একটি ওপেন-বুক সফটওয়্যার চালায়, প্রতিটি দাতা, ঋণ ও কিস্তি সরাসরি প্রকাশিত। আপনি আপনার দান কোন ব্রাঞ্চে গেছে এবং কারা উপকৃত হয়েছেন তা দেখতে পারবেন।

নাম প্রকাশ না করে কি দান করা যায়?

হ্যাঁ, নিজের নামের পরিবর্তে কোনো প্রয়াত আত্মীয়ের নামে বা ছদ্মনামে দান প্রদর্শন করতে পারেন।

ব্রাঞ্চ ও ঋণগ্রহীতাদের জন্য

একটি মসজিদ কীভাবে ব্রাঞ্চ খুলতে পারে?

৭-১০ জন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকের একটি টিম (একজন লিডার, একজন কোষাধ্যক্ষ ও সদস্যরা) গঠন করে ওয়েবসাইটের "Apply Online" বাটনে আবেদন করতে হয়। খুলতে কোনো খরচ নেই, মসজিদ ডট লাইফ সম্পূর্ণ ফ্রি সাপোর্ট দেয়।

শুক্রবারের প্রক্রিয়াটি কেমন?

ঋণ সিদ্ধান্ত, বিতরণ ও কিস্তি আদায়, সবকিছু জুমার নামাজের পর মসজিদেই হয়, কখনো ঋণগ্রহীতার বাড়িতে গিয়ে নয়। এর ফলে কার্যক্রম সবার সামনে প্রকাশ্য থাকে এবং দেরিতে পোস্টিংয়ের কারণে কাউকে ভুলভাবে খেলাপি হিসেবে দেখানোর ঝুঁকি থাকে না।

কে ঠিক করেন কে ঋণ পাবেন?

ব্রাঞ্চ ম্যানেজমেন্ট টিম, তবে কমপক্ষে ৬ জনের স্বাক্ষরে রেজুলেশন পাস না হলে কোনো ঋণ বিতরণ হয় না, এমনকি টিম লিডারও এই নিয়মের ব্যতিক্রম করতে পারেন না।

কোনো ব্রাঞ্চ কি বাড়তি টাকা নিতে বা পক্ষপাতিত্ব করতে পারে?

না। ঋণের বাইরে কোনো নামেই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ, দেরিতে পরিশোধের জন্য কাউকে অপদস্ত করাও নিষিদ্ধ। (প্রকৃত প্রতারণার ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।)

ঋণগ্রহীতার ছবি কেন প্রকাশ করা হয়?

যাতে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ভুয়া বা অযোগ্য ব্যক্তির নামে ঋণ ইস্যু হলে তা চিহ্নিত করতে পারেন, স্বচ্ছতা এখানে শুধু প্রকাশ নয়, প্রতারণা প্রতিরোধের একটি হাতিয়ার।

নিরাপত্তা ও বিশ্বাস

দান করার আগে অ্যাকাউন্ট কীভাবে যাচাই করব?

শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে উল্লেখিত ব্যাংক হিসাব, বিকাশ বা নগদ নম্বরে টাকা পাঠান। ফোন, মেসেজ বা তৃতীয় পক্ষের দেওয়া কোনো নম্বরে কখনোই টাকা পাঠাবেন না।

আমি দান করেছি, কিন্তু আমার নাম দাতার তালিকায় নেই, কী হয়েছে?

এর মানে আপনার টাকা মসজিদ ডট লাইফে পৌঁছায়নি। তদন্তের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইলে জানান।

প্রতারণা বা মসজিদ ডট লাইফের নাম অপব্যবহারের অভিযোগ কীভাবে জানাব?

সরাসরি ফাউন্ডার কামাল আহমেদকে জানান, হোয়াটসঅ্যাপ (+1 919 360 8286) বা ইমেইল (masjid.life.kamal@gmail.com), About পৃষ্ঠায় উল্লেখিত একই যোগাযোগ মাধ্যমে।